ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪ ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ

এনআইডি জাল করে চাকুরি ও নামজারি খতিয়ান

  • নাম তার সালাউদ্দিন, পিতার নাম সরকারি চাকুরিতে ব্যবহার করেন মো. আবুল কাসেম। অন্যদিকে পিতার নাম রসুল হক উল্লেখ করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে নামজারি জমাভাগ খতিয়ান সৃজন করেন। তিনি ২০০৯ সাল থেকে সীতাকুন্ড উপজেলা প্রাইমারি টিচার্স ইনস্টিটিউটে (রিসোর্স সেন্টার) পিয়নের চাকুরি করছেন। সরকারি চাকুরি করে সরকারি জাতীয় সনদ জাল করার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌত‚হল ছড়িয়ে পড়ে।
    এ বিষয়ে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র মজুমদার বলেন, বিষয়টি আমি ইতিমধ্যে শুনেছি। সালাউদ্দিন আমার অফিসে পিয়নের চাকুরি করে।সরকারি চাকুরি করে জাতীয় সনদ জাল করা জঘন্য বিষয় ও আইন পরিপন্থি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। একইভাবে সালাউদ্দিনকে এই বিষয়ে জানানোর জন্য লিখিত নোটিশ দিয়েছি।
    অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের জাহানাবাদ মাদামবিবিরহাট এলাকার আবদুল খালেক সেরাং এর বাড়ির সিদ্দিক আহমেদের ছেলে রসুল হক। পেশায় তিনি একজন গাড়ি চালক। তার নেশা ছিল বিয়ে করা। প্রথমে সামাজিকভাবে এই রসুল হক বিয়ে করলেও পরে তিনি গাড়ি নিয়ে যেখানে যেতেন সেখানে বিয়ে করে ফেলতেন। এভাবে সালাউদ্দিনের মাতা হাজেরা বেগমকেও ৭ মাসের অন্তঃসত্ত¡া অবস্থায় বিয়ে করে মাদামবিবিরহাট নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। পরে রসুল হকের মৃত্যুর পর দুই সন্তান নিয়ে সালাউদ্দিনের মাতা ফেনী জেলার আবুল কাসেম নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। এরপর মায়ের দুই সংসার ও দুই স্বামীর সুযোগ নিয়ে দুই ঠিকানা ব্যবহার করে সালাউদ্দিন অষ্টম শ্রেণির সার্টিফিকেট দিয়ে পিতা আবুল কাসেম দেখিয়ে ২০০২ সালে প্রথমে উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ফেনী জেলায় সরকারি চাকুরি শুরু করেন। পরে ২০০৯ সালে বদলী হয়ে সীতাকুন্ড উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে যোগদান করেন। সম্প্রতি রসুল হককে পিতা দেখিয়ে উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে সালাউদ্দিন নিজ নামে নামজারি খতিয়ান সৃজন করেন। একইভাবে ঐ ওয়ারিশ সনদ দিয়ে আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন তিনি।
    একি লোক দুইটি জাতীয়তা সনদ ব্যবহারের বিষয়ে রিসোর্স সেন্টারের পিয়ন সালাউদ্দিন বলেন, “ফেনী জেলার আবুল কাসেম আমার পালক পিতা। আর ভাটিয়ারির মাদামবিবিরহাট এলাকার রসুল হক হলো আমার আসল পিতা।”
    এসব বিষয়ে মাদামবিবিরহাট রসুল হকের ছোট ভাই মো. আজম বলেন, “আমার ভাই রসুল হক জীবদ্দশায় একটু নারী লোভী ছিল। পেশায় গাড়ি চালক হওয়ায়, গাড়ি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতেন আর আমাদের অজান্তে বিয়ে করতেন। সালাউদ্দিন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় বিয়ে করে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তার আসল পিতা কে? সেটা তার মায়েই ভালো জানেন।”
    উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “দুই জায়গায় দুই রকম জাতীয়তা সনদ (এনআইডি কার্ড) ব্যবহার করা অন্যায়। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

     

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn