জুলাই ১৯, ২০২৪ ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির না পাওয়াটা বেদনাদায়ক

চট্টলার কণ্ঠ প্রতিবেদন। শুক্রবার, ২৬ মে ২০২৩

একাত্তরের ২৫ শে মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরীহ বাঙালিদের উপর যেভাবে নৃশংস ও বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়েছিল তা নিয়ে জাতিসংঘের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে প্রচার শুরুর পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক ডাচ এমপি হ্যারিব্যান বোম্মেলি। তিনি বলেন, আর্মেনিয়ার জেনোসাইডের স্বীকৃতি আদায়ে লেগেছিল ১০০ বছর, বাংলাদেশের হয়ত এত সময় লাগবে না। অপারেশন সার্চ লাইট দিয়েই একাত্তরের জেনোসাইডের স্বীকৃতি আদায়ে আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি শুরু করা যায়। শুধু নেদারল্যান্ডস নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে এ প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিনিয়রস ক্লাবে ‘রিকোগনাইজিং বাংলাদেশ জেনোসাইড ইন ১৯৭১’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন। চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব লিমিটেডের ইউসিবি অডিটোরিয়ামে ক্লাব প্রেসিডেন্ট ডা. সেলিম আকতার চৌধুরীর সভাপতিত্বে চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব লি. ও ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরামের (ইবিএফ) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রতিপাদ্য বিষয় উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ফোরাম (ইবিএফ) নেদারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত পরিকল্পিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য নানান পরামর্শক মূলক বক্তব্য দেন জোনোসাইড স্টাডিজের আমস্টারডামের ভ্রিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এন্থোনিক হলস্লেগ, ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত যুক্তরাজ্যের সাংবাদিক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন।

সাবেক ডাচ এমপি হ্যারিব্যান বোম্মেলি বলেন, বিশ্বের সবচাইতে রক্তাক্ত ও বর্বরোচিত এই গণহত্যা বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে কলক্সিকত একটি ঘটনা। ঐ দিন রাতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ও ঠাণ্ডা মাথায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একই সময়ে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানায় তৎকালীন বিডিয়ার বাহিনীর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরান ঢাকায় বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এদিন কেবল একরাতেই ঢাকায় ১০ লাখ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে একই সময়ে এতবড় হত্যাকাণ্ডের নজির আর নেই। এই হত্যাকাণ্ডের ৫০ বছর পরও ‘বাংলাদেশ গণহত্যা ১৯৭১’ আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত না হওয়ার বিষয়টি বড় বেদনাদায়ক। সভায় বক্তারা আর্ন্তজাতিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ এর আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, কোথাও যাতে আর জেনোসাইড সংঘটিত হতে না পারে এজন্য বিশ্ব জনমত গঠন করতে হবে। আর এজন্যই প্রয়োজন বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এটা শুধু গণহত্যা নয়। এটা জেনোসাইড।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে ক্লাব প্রেসিডেন্ট ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ গণহত্যা পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় ধরনের মানবতা বিরোধী অপরাধ। এই ধরনের অপরাধের যাতে ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য এই গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি আবশ্যক। এই স্বীকৃতি অর্জনে ইউরোপে বিভিন্ন দেশে ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানকার বেশ কয়েকটি দেশ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যাকে গত ১০০ বছরের মধ্যে বীভৎসতম ট্র্যাজেডি হিসাবে অভিহিত করেছে। বাংলাদেশ গণহত্যার আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এটা একটি নতুন মাইলফলক হতে পারে।

শহীদ মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীরের সঞ্চালনায় সেমিনারে চট্টগ্রামে ’৭১ এর গণহত্যা প্রত্যক্ষ বর্ণনা এবং গণহত্যার স্থান সমূহ রক্ষাসহ নানান দিক নিয়ে প্রতিনিধি দলের সামনে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা একেএম বেলায়েত হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল, আমরা ’৭১ এর হেলাল ফয়েজী, ইউএসটিসির সাবেক উপাচার্য ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, মুক্তিযোদ্ধা অমলেন্দু দাশ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেব–উন–নেসা চৌধুরী লিজা, ডা. প্রীতি বড়ুয়া ও অধ্যাপক ববি বড়ুয়া।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn