এপ্রিল ১৪, ২০২৪ ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংঘর্ষে ফটিকছড়ি রণক্ষেত্র

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভূজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকোঁ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জনের মত আহত হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি গাড়ীও ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষের জন্য বিএনপি ও আওয়ামীলীগ পরস্পরকে দায়ী করেছে।

এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, উত্তর জেলা বিএনপি নেতা সরোয়ার আলমগীরের সমর্থক নেতাকর্মীরা প্রায় দুইশত মোটরসাইকেল বহর নিয়ে হেয়াকোঁ চৌধুরী পাড়ায় বিএনপি নেতা কামাল চৌধুরীর বাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল। তাদের গাড়ীবহর হেয়াকোঁ বাজারে পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর করে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

সংঘর্ষের সময় হেয়াকোঁ-ফটিকছড়ি চট্টগ্রাম সড়ক ও ফেনী-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতংকিত হয়ে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। মুহুর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পিছু হটে নারায়নহাট এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেয়।

দাঁতমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম সরকার চট্টলার কণ্ঠকে  বলেন, বিয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় হেয়াকোঁ বাজারের মোড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর শ্লোগান দিতে থাকে। এসময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা কর্মীরা প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এসময় উভয় পক্ষকে অনুরোধ করে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করা হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা শক্তি সঞ্চয় করে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের উপর পাল্টা হামলা করে। এতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হানিফ সরকার ও বনানী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর গুরুতর আহত হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা তাদেরকে ধাওয়া দেয়। খবরে পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে ভূজপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক একরামুল হক চট্টলার কণ্ঠকে বলেন, হেয়াকোঁতে কামাল চৌধুরীর বাড়ীতে দাওয়াতে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অন্তত দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু গাড়ীও ভাংচুর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, বিএনপি নেতা সরোয়ার আলমগীর কয়েকশত মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে হেয়াকোঁতে একটি দাওয়াতে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, বিএনপি নেতা সরোয়ার আলমগীর এতগুলো গাড়ী বহর নিয়ে আসার বিষয়টি পুলিশকে আগে থেকে অবহিত করেননি।

এদিকে

সোমবার রাত ১১ টায়  খবর পাওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা হেয়াকোঁ বাজারে অবস্থান নিয়ে মিছিল করছিল। আর বিএনপি নেতা কর্মীরা কিছু দুরে নারায়নহাট গিয়ে অবস্থান নেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn