এপ্রিল ১৭, ২০২৪ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

হামলার ঘটনায় বিএনপির মামলা নেয়নি কোতোয়ালি থানা পুলিশ

কলিম খান  সোহেল।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে গত বুধবার হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় নগরীর কোতয়ালী থানায় বিএনপি’র মামলা গ্রহণ করেনি কোতোয়ালী থানা। এমন অভিযোগ করে বিএনপি থেকে বলা হয়েছে সাবেক পিপি এডভোকেট আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন আইনজীবী বিকালে কোতোয়ালি থানায় যান। কিন্তু আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলার ঘটনার পরও পুলিশ নেয়নি। তাই তারা আদালতে যাবেন।

 

এডভোকেট আবদুস সাত্তার পূর্বকোণকে জানান, গতকাল বিকাল ৪টার দিকে তারা কোতোয়ালী থানায় যান। তারা প্রথমে ডিউটি অফিসারের কাছে মামলার আবেদনের কপি জমা দেন। ডিউটি অফিসার তাদেরকে প্রায় ঘণ্টাখানেক বসিয়ে রেখে ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। ডিউটি অফিসার তাদেরকে ওসি (তদন্ত) রুবেল হাওলাদারের কাছে নিয়ে যান। ওসি তদন্ত মামলার বাদী কাজী মাহমুদ হোসেনকে ডেকে নিয়ে তার সাথে কথা বলেন। বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

 

এডভোকেট আবদুস সাত্তার চট্রলার কন্ঠকে জানান, যেহেতু থানা মামলা নেয়নি তাই তারা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

 

থানায় মামলা দায়েরের জন্য যে অভিযোগ লেখা হয় তাতে উল্লেখ করা হয়, ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, মনিরুল আলম নোভেলসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জন গত ১৯ জুলাই দুপুর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে নাসিমন ভবনের কলাপসিবল গেইট ভাঙচুর করে ভিতরে প্রবেশ করে। তারা চেয়ার, টেবিল, আসবাবপত্র, দরজা ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। পার্টি অফিসে সংরক্ষিত ১ লাখ টাকার একটি ল্যাপটপ নিয়ে যায়। এছাড়া বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার ভাঙচুর এবং পার্টি অফিসের সামনে অগ্নিসংযোগ করে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে।’

 

কোতোয়ালী থানায় যাওয়া এডভোকেট হাসান আলী জানান, ওসি তদন্ত তাদেরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনে হামলার কোন ঘটনা ঘটেনি। মিথ্যা মামলা কেন নেবো? যেসময়ে হামলার ঘটনার অভিযোগ করা হচ্ছে ওইসময় কোতোয়ালী থানা পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল। যেহেতু হামলার ঘটনা ঘটেনি তাই মামলা নেয়ারও সুযোগ নেই।’ এক পর্যায়ে ওসি তদন্ত বলেন, ‘ওসি সাহেব অসুস্থ। তারা রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসে ওসির সাথে কথা বলতে পারেন।’ তখন তারা ওসি তদন্তকে বলেন, ‘আমরা মামলা করতে এসেছি। আপনারা মামলা নিবেন কিনা বলেন। না নিলেও বলে দেন।’ তিনি কোন সদুত্তর দেননি। তাই তারা চলে আসেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল কবির চট্রলার কন্ঠকে  বলেন, বিএনপি’র আইনজীবীদের রাতে আসতে বলা হয়েছে। থানা মামলা নেবে না এ কথা তাদেরকে বলা হয়নি।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn