এপ্রিল ১৪, ২০২৪ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

বন্যার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে

 

ইমরান নাজির

বৃষ্টির ও বন্যার  প্রভাবে সরবরাহ কমায় সবজি, মুরগির দাম গতসপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। প্রায় সব ধরনের সবজিতে দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। অপরদিকে কেজিতে আরো ২০ টাকা দাম বেড়ে ব্রয়লার মুরগ

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১০ আগস্ট) নগরের চৌমুহনী কর্ণফুলী বাজার ও কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৭০ টাকার নিচে মিলছে না কোন সবজি। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি বেগুন ৬০, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০, পটল ৬০, করলা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কচুর ছড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে মিষ্টি কুমড়া ও লাউ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ২৪০, গাঁজর ১শ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাজীর দেউড়ি বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আব্দুল খালেক চট্টলার  কণ্ঠকে   বলেন, বন্যার কারণে মাঠে সবজির বেশ ক্ষতি হয়েছে। আশপাশের উপজেলাগুলো থেকে সবজি না আসায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। ফলে প্রায় সব ধরনের সবজির কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে কর্ণফুলী ও কাজীর দেউড়ি বাজারে গতসপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছিল ১৭০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে আরো ২০ টাকা বেড়ে আজ প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায় এবং সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা দরে। তবে হালিশহর, ঈদগাঁ এলাকার স্থানীয় বাজারগুলোতে ১৮০ টাকা দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি কর্ণফুলী বাজারে প্রতিকেজি হাঁড় ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকা ও হাঁড়সহ গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কর্ণফুলী বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা মো. মাসুম বিল্লাহ চট্টলার কণ্ঠকে  বলেন, প্রতিকেজি গরুর মাংস আমাদের ৮শ টাকা কেনা পড়ে। ৯শ টাকার উপরে বিক্রি করতে না পারলে আমাদের লোকসান হয়। কারণ আমাদের দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ দিতে হয়।

একই বাজারে মুরগি বিক্রেতা মো. শাহেদ বলেন, বাজারে সব সময় ব্রয়লার মুরগির চাহিদা থাকে। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ সপ্তাহে মুরগির সরবরাহ কম। তাই বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাছের বাজারেও মিলছে না স্বস্তি। কর্ণফুলী বাজারে প্রতিকেজি পাবদা মাছ ৪৫০ থেকে ৫শ টাকা, ছোট আকারের রুপচাঁদা মাছ ৭শ টাকা ও বড় আকারের রুপচাঁদা মাছ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি তেলাপিয়া ২শ, পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ১৯০, আকারভেদে প্রতিকেজি রুই ২৬০ থেকে ৩শ, কাতল আকারভেদে ৩২০ থেকে ৪শ, মৃগেল ২২০, কোরাল ৮শ ও চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে এক থেকে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১২শ থেকে ১৮শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৩শ থেকে ২৪শ টাকায়। কাজীর দেউড়ির মাছের বাজারেও দামে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায়নি।

কাজীর দেউড়ি বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ইলিয়াসের  সাথে। তিনি  বলেন, বন্যার অজুহাতে সব ধরনের সবজিতে ২০ টাকার উপর বেড়েছে। লাল ডিম ডজনে ২০ টাকা বেড়ে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোরবানের সময় কিছুটা কমলেও এখন ১৮০ টাকায় ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে। বাজারের এ মাথা থেকে ওমাথা হাঁটছি। দাম শুনে কি কিনবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

এদিকে সরবরাহ কমায় চট্টগ্রামের বৃহত্তর ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েছে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বেড়েছে। খাতুনগঞ্জের মোকামগুলোতে একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি রসুন ১৮৫ থেকে ১৮৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আদা বিক্রি হচ্ছে আগের দরেই। আজ প্রতিকেজি মায়ানমারের আদা ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং ইন্দোনেশিয়ার আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকা এবং রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী চট্টলার কন্ঠকে  বলেন, স্থলবন্দরে বাড়তি দরে পেঁয়াজ, রসুন বিক্রি করায় আমাদের পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে পণ্যগুলোর দাম বেড়েছে। আশা করছি তিন চারদিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমে যাবে।

 

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn