এপ্রিল ১৪, ২০২৪ ৭:১১ পূর্বাহ্ণ

লাগামহীন চট্টগ্রামে ডিম ও মুরগির দাম

ওয়াসিম জাফর।

কম দামে পাওয়া প্রোটিনের একমাত্র উৎস ডিম। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলেছে ডিমের দাম। গতকাল নগরী খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৬৫ টাকায়। অর্থাৎ একটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৪ টাকা। অন্যদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। হঠাৎ করে ডিমের এমন দাম বৃদ্ধিকে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলছেন ভোক্তারা। তবে ডিম বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ডিমের সরবরাহ কমার কারণে দাম বাড়ছে।

আজ মঙ্গলবার কাজীর দেউরি বাজারে কথা হয় আলিম উদ্দিন নামের এক ক্রেতার সাথে। তিনি বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অবস্থা এমন হয়েছে, আলু ভর্তা ও ডাল ভাতের খরচও বেড়ে গেছে। প্রতি ডজন ৮০–৯০ টাকার ডিম দেখতে দেখতে দ্বিগুণ। এছাড়া একইভাবে আলুর দামও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ভ্যান চালক হোসেন আলী চট্টলার কণ্ঠকে  বলেন, আমরা গরীব বেশি দামের কারণে মাছ মাংস কিনতে পারি না। ছেলে মেয়েদের জন্য ডিম কিনতাম। এখন সেই ডিমের দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এম এম ইলিয়াছ উদ্দিন নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টলার কণ্ঠকে  বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখেছি, মুরগির খাবারের দাম বাড়ার কারণে ডিমের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। অথচ মুরগি খাবারের দাম গত এক মাসে বাড়েনি। কিন্তু এরমধ্যে ডিমের দাম ডজনে ২৪ টাকা বেড়ে গেছে। এদিকে ব্রয়লার মুরগির বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অর্থাৎ এক ডজন ডিম ও এক কেজি মুরগির দাম এখন সমান সমান।

মুরগি বিক্রেতা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চট্রলার কণ্ঠকে  বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মুরগির দাম কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে।

উৎপাদনও স্বাভাবিক রয়েছে, তাই সরবরাহও বেড়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন চট্টলার কন্ঠকে বলেন, বাজারে প্রতিটি পণ্যই নিয়ে চলছে সিন্ডিকেট। ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক পণ্য নিয়ে খেলছেন। এর সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে ডিম। ডিম আমাদের দেশের নিম্নবিত্তশ্রেণীর মানুষের প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস। সেই ডিমের চোখের পলকে প্রতিটি ১৪ টাকা হয়ে গেল। গরীব মানুষ আগে যারা একটি ডিম দুইজনে ভাগ করে খেতেন, তাদের সেই ভাগটি নিঃসন্দেহে বাড়বে। তাদের পক্ষে হয়তো পরিবারের প্রতি সদস্যের জন্য একটি করে ডিম কিনে খাওয়া সম্ভব না। তাই প্রশাসনকে ডিমের বাজারে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে দাম ক্রেতাদের নাগালে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn