মে ২০, ২০২৪ ২:১১ পূর্বাহ্ণ

চবিতে সাংবাদিককে মারধর

চট্রলার কন্ঠ। 

 

সংবাদ প্রকাশের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মোশাররফ শাহ নামে এক সাংবাদিককে মারধর করেছে শাখা ছাত্রলীগের উপপক্ষ চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ারের (সিএফসি) কর্মীরা। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)। বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে চবিসাসের সদস্য এবং কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনের পর বিচার দাবিতে প্রক্টর ও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

মারধরের শিকার মোশাররফ শাহ প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও চবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য। আহত অবস্থায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বুক ও হাতে আঘাত থাকার কারণে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মোশাররফ শাহ জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি উপাচার্যের কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, ভাঙচুর, প্রধান প্রকৌশলীকে মারধর বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য। এ সময় দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন কর্মী তাকে প্রথমে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। এরপর ছাত্রলীগ নিয়ে কেন প্রতিবেদন তৈরি করেছেন তা জানতে চান। কয়েকজন তার কপালে, মুখে কিল ঘুষি দেন। তার বুকে লাথি দেন। হাতেও আঘাত করেন।

মোশাররফ জানান, মারধরের সময় নেতাকর্মীরা তাকে পরবর্তীতে আর ছাত্রলীগ নিয়ে প্রতিবেদন না ছাপানোর হুমকি দেন। তারা বলেন, ‘আর নিউজ করিস, তারপর দেখব তোরে কে বাঁচাতে আসে। ছাত্রলীগকে নিয়ে কোনো নিউজ হবে না।’

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে মারধরে জড়িত পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন অর্থনীতি বিভাগের রাইসুল ইসলাম রুমান, বাংলা বিভাগের আফিফ আল সাদ, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের লাবিব খান, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের জুনায়েদ সরকার এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের আবদুল্লাহ মাহমুদ স্বাধীন। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রক্টর ড. নূরুল আজিম সিকদার চট্টলার কন্ঠকে বলেন, শোনার সাথে সাথে মেডিকেলে মোশাররফকে দেখতে গিয়েছি। অভিযোগ পেয়েছি। আমরা এটাকে কঠোরভাবে দেখছি। এবার আর ছাড় নয়।

ফোনালাপে জানতে চাইলে এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, সাংবাদিককে মারধর অবশ্যই নিন্দনীয় কাজ। আমরা খতিয়ে দেখে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।

মানববন্ধনে চবিসাসের সভাপতি মাহবুব এ রহমান বলেন, এর আগেও অনেকগুলো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিচার চেয়েও পাইনি। যা হয়েছিল তা বলা যায় গুরু পাপে লঘু দণ্ড। মানববন্ধন থেকে দাবি জানাচ্ছি, এ ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

চবিসাসের সাধারণ সম্পাদক ইমাম ইমু বলেন, একজন সাংবাদিকের যেখানে নিরাপত্তা নেই, সেখানে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করা যায় না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn