ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪ ২:১৮ পূর্বাহ্ণ

মহেশখালীতে প্রায় পাঁচশো পর্যটক আটকা পড়লেন

বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের ঘুরতে এলে পর্যটকরা মহেশখালীতে এসে ঘুরে যান প্রায়শই। 

শুক্রবার (২৯ই সেপ্টেম্বর) বিকেলে মহেশখালী জেটিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, জেটিঘাট সংলগ্ন খালে পানি নাই। ভাটার সময় শুকিয়ে গেছে। যার কারণে বোট চলাচল বন্ধ। ফলে প্রায় ৫ শতাধিক স্থানীয় জন সাধারণ ও পর্যটক জেটিতে আটকে পড়েছে। পর্যটকরা অভিযোগ করছেন তাদের সাথে অশোভন আচরণ করে ঘাটের দায়িত্বরতরা।

nagad

মিজানুর রহমান, আরিফ, হাসানসহ কয়েকজন পর্যটক বলেন, ‘কক্সবাজারের ঘুরতে এসে শুনেছি মহেশখালী দ্বীপ অনেক সুন্দর। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা এত খারাপ তা জানা ছিল না। এখন পরিবার নিয়ে ঘাটে আটকে আছি। সন্ধ্যার পর বাচ্চাদের নিয়ে কিভাবে নদী পার হবো সেই শঙ্কায় আছি।’

হান্নান রহিম তালুকদার নামের এক শিক্ষার্থী চট্টলার কন্ঠকে  বলেন, ‘বিকাল ৪ টার সময় ঘাটে এসে এখনো বোটে উঠতে পারিনি। কক্সবাজার যেতে পারিনি। এখন সন্ধ্যা ৬.১৫ টা বাজে। প্রায় ৫শ’র ও অধিক স্থানীয় ও পর্যটক আটকে আছে মহেশখালী ঘাটে। যেখানে রয়েছে অনেক রোগী, বৃদ্ধ ও শিশু।’

মির্জা রফিক ও সহিদা দম্পতি বলেন, ‘পাঁচজন সদস্য নিয়ে মহেশখালী আসছি। কক্সবাজার ঘাটে প্রতিজন থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এই টাকা কেন নেওয়া হল জিজ্ঞেস করলে তারা কিছুই জানায়নি।’

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন,  স্মার্ট বাংলাদেশের ডিজিটাল মহেশখালীতে অত্যাধুনিক যুগে এসেও সেই আদিযুগের লক্কর ঝক্কর মালটানার গাম বোট ও ফিটনেস বিহীন স্পিডবোটে করে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ৫লাখ মানুষের বসতি দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মানুষ টেকসই গণ পরিবহন ব্যবস্থা এখনো পায় নি। অথচ ঘাটের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার মানববন্ধন করেছিল। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয় নি।

মহেশখালী নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘দীর্ঘ বছর ধরে চলা ঘাটের অনিয়ম বন্ধে ৩০ আগস্ট মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসক বরাবর দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়। কিন্তু ঘাটে কোন পরিবর্তন আসেনি।’

পর্যটক হয়রানি বন্ধে কোন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয় নি কেন সেই বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিকি মারমা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

পর্যটন দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে কক্সবাজারের হোটেল মোটেল জোনসহ বিভিন্ন স্পটে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কর্তৃক এমন সিদ্ধান্ত প্রচারের পর পর্যটকদের ঢল নেমেছে সমুদ্র নগরী কক্সবাজারে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn