ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪ ১২:০৩ অপরাহ্ণ

সময় থাকতে শান্তিপূর্ণভাবে পদত্যাগ করুন বললেন ফখরুল

এক দফা দাবি আদায়ে আগামী ৯ অক্টোবর থেকে সভা–সমাবেশ ও অনশনহ সারা দেশে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীর। কর্মসূচিগুলো হচ্ছে– দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে ৯ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশে মহানগর ও জেলায় সমাবেশ ও মিছিল, ১২ অক্টোবর সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঢাকায় ছাত্র কনভেনশন, ১৪ অক্টোবর খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে জেলা ও মহানগরে অনশন, ১৬ অক্টোবর সরকারের পদত্যাগের ১ দফা দাবিতে ঢাকায় যুব সমাবেশ এবং ১৮ অক্টোবর একই দাবিতে ঢাকায় জনসমাবেশ।

কর্মসূচি ঘোষণা করে ফখরুল বলেন, ঢাকার জনসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আল্লাহর কাছে দোয়া করি সেই কর্মসূচি যেন শেষ কর্মসূচি হয়, আশা করি সেখান থেকে সরকারকে নামাতে পারব। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছি। আমরা অহিংস আন্দোলন করছি। যদি আমাদের উপর কোনো আক্রমণ করা হয়, আমাদের যদি অন্যায়ভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়, গ্রেপ্তার করা হলে বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নিবে না। আঘাতের জবাবে প্রত্যাঘাত করা হবে। প্রতিরোধ করা হবে এবং সেই প্রতিরোধই হবে বাংলাদেশের মানুষের বিজয়ের সূচনা।

রোডমার্চ শেষে গতকাল নগরের নূর আহমদ সড়কের নেভাল এভিনিউস্থ তিন রাস্তার মোড়ে আয়োজিত বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন ও আবদুল আউয়াল মিন্টু। সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর।

এর আগে সকাল ১১টায় ফখরুল–খসরুর নেতৃত্বে কুমিল্লা থেকে রোডমার্চ করে চট্টগ্রাম অভিমুখে রওয়ানা হন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পথে ফেনী ও মীরসরাইয়ে পথসভায় বক্তব্য রাখেন তারা। মির্জা ফখরুল যখন সভামঞ্চে আসেন রাত তখন প্রায় ৯টা। এর আগে দুপুর ২টা থেকে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে যোগ দেন সমাবেশস্থলে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা শুধু এ মাস দেখব। দুর্গাপূজা, এসময়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে চাই না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন এগিয়ে নিতে চাই। ১৮ অক্টোবরের পর দুর্গাপূজা, এসময়ে মধ্যে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, এসময়ের মধ্যে আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আপনার পদত্যাগ করেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেন। অন্যথায় জনতাই ক্ষমতা দখল করবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে চট্টগ্রামে গণবিস্ফোরণ ঘটেছে। সব মানুষ আজকে রাস্তায় নেমে এসেছে। আওয়ামী লীগ বন্দুকের জোরে ও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে টিকে আছে। সব মানুষের মুখে এখন একটাই স্লোগান, শেখ হাসিনার বিদায় কবে। ওই বার্তা আমরা নিয়ে এসেছি। অনেক কথা হয়েছে, অনেক রোডমার্চ–সমাবেশ করেছি। চট্টগ্রামে শেষ রোডমার্চ হল। এরপর আর রোডমার্চ হবে না, সব হবে ঢাকায়। রাজধানীতে পতন ঘটাতে হবে।

ফখরুল বলেন, পরিষ্কার করে বলতে চাই, অনেক মানুষ খুন করেছ, হাত রঞ্জিত করেছ, আমাদের অনেক ভাইকে হত্যা করেছ, অনেক স্ত্রীকে স্বামীহারা করেছ, অনেক সন্তানকে পিতৃহারা করেছ। আমরা আর এসব করতে দেব না। রাষ্ট্রের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, অন্যায় হুকুমের মধ্যে কোনো গুলি করবেন না, কোনো অত্যাচার–নির্যাতন ও কোনো মিথ্যা, গায়েবি মামলা করবেন না।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মানুষ জেগে উঠেছে। শান্তিপূর্ণভাবে যদি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন ভাল। সময় আছে শান্তিপূর্ণভাবে পদত্যাগ করেন। পরিষ্কার করে বলেছি, দফা–একটা, দাবি একটা, আপনার অধীনে আর নির্বাচন আমরা চাই না। সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। মানুষ তার ভোট দিয়ে নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচন করবে। ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র

করেছেন। এ হত্যার রাজনীতি আমরা দেখতে চাই না।

বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, সারা পৃথিবী বলছে বাংলাদেশে একটি অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তিনি বলেন, দেশে কোনো আইন নেই, সবকিছু একজনের কথায় চলে, তাকে ক্ষমতার মসনদ থেকে নামাতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালবাসে। অথচ তাকে আজ ‘মিথ্যা’ মামলা দিয়ে ঘরবন্দী করে রেখেছে। তিলে তিলে তাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সময় তাকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল। বিদেশে চিকিৎসা করাতে গেলে সেটা ধরা পড়ে যাবে। তাই তাকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে দেওয়া হচ্ছে না। একজন নারী হিসেবে আরেকজন নারীর প্রতি এমন অবিচার জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় পদত্যাগে বাধ্য করব। তিনি বলেন, এই সরকার দেশ ধ্বংস করেছে, ব্যাংক লুট করেছে। পদত্যাগের পর জানা যাবে কতশত কোটি টাকা তারা লুট করেছে। আমরা একদফা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমাবেশের সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, লুৎফর রহমান কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, মোস্তাক আহমেদ, মা ম্যা চিং, ভিপি হারুনুর রশীদ, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, গাজী শাহজাহান জুয়েল, আলমগীর মাহফুজুল্লা ফরিদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সাচিং প্রু জেরী, সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, তরিকুল আলম তেনজিং, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, কেন্দ্রীয় শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দিপন তালুকদার দিপু, কঙবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, মহিলা দল নেত্রী শামীমা বরকত লাকী, এম এ হালিম, এম এ আজিজ, এনামুল হক এনাম, এম এন আবছার, মামুনুর রশীদ মামুন, মো. মিয়া ভোলা, নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল উদ্দিন, আবদুল মান্নান, এড. এনামুল হক, নুরুল্লাহ বাহার।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn