ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪ ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সব ধরনের নৌচলাচল বন্ধ

ইবনে মীর।

চট্টগ্রাম বন্দরসহ সারাদেশে সব ধরণের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানকারী সব মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে।

লাইটারেজ জাহাজ এবং মাছ ধরা ট্রলারসহ সব নৌযান নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ এর কারণে সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

আজ মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) এ নির্দেশ দেয় বিআইডব্লিউটিএ। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নির্দেশ বলবৎ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুন আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলটি আজ মধ্যরাতে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে এর অগ্রভাগ আজ সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটার মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এ সময়ে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি এখন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুন্দ্রবন্দরে সাত নম্বর বিপদসংকেত এবং কক্সবাজারে ছয় নম্বর ও মোংলা বন্দরে পাঁচ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তর বলছে, দুপুর ১২টায় এ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুন্দ্রবন্দর থেকে ২১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শেষরাত থেকে সকালের মধ্যে মেঘনার কাছ দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অতিক্রম করতে পারে।

অধিদপ্তর বলছে, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কন্ট্রোলরুম চালুসহ সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ উপকূলের ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসায় চট্টগ্রাম বন্দর পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলে বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানান।

তিনি বলেন, “বন্দরের সব স্টেকহোল্ডারদের সাথে সভা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয় লোডিং আনলোডিং (জাহাজ থেকে জেটিতে পণ্য ওঠানামা) বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টদের এখন জানিয়ে দিচ্ছি।”

সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, বন্দরের জেটিতে থাকা জাহাজগুলোকে বর্হিনোঙ্গরে চলে যেতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সকালে জোয়ার চলার সময় চারটি জাহাজ বন্দরের জেটি ছেড়ে গেছে। এরপর ভাটা শুরু হওয়ায় বাকি জাহাজগুলো জেটিতেই অবস্থান করছে।

বন্দর সচিব বলেন, “জেটিতে মোট ২২টি জাহাজ ছিল। তারমধ্যে চারটি চলে গেছে। বাকি জাহাজগুলো পরের জোয়ারের সময় চলে যাবে। পরবর্তী জোয়ার শুরু হবে বিকাল ৪টায়।”

অন্যদিকে নদীর বন্দর সংলগ্ন এলাকা থাকা ছোট ও মাঝারি জাহাজগুলোকে উজানের দিকে সরে যেতে বলা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম বন্দরের উজানে সদরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু ও এর পরবর্তী এলাকায় সেসব জাহাজ অবস্থান নিতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক চট্টলার  কণ্ঠকে বলেন, “যেসব ভারী যন্ত্র সরাতে হবে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। আর যেগুলো বেঁধে রাখতে হবে সেগুলো বেঁধে রাখা হবে।

“দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে এবং চলবে। সংকেত ৫ এর উপরে উঠলে বন্দরের ‘এলার্ট-৩’ জারি করা হয়। আমরা সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

এলার্ট-৩ বন্দরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্ক সংকেত। আবহাওয়া অফিস ৮, ৯ বা ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেখাতে বললে তখন বন্দরের সর্বোচ্চ সতর্ক সংকেত এলার্ট -৪ জারি করা হয়।

এলার্ট-৩ জারি হলে বন্দরের জেটি থেকে সব জাহাজ সাগরে সরিয়ে নিতে হয়। পাশাপাশি বন্দরের যন্ত্রপাতি ও স্থাপনার সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn