ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪ ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারে হামুনের তাণ্ডব

রহিম উল্লাহ উপল, কক্সবাজার প্রতিনিধি।

চট্টগ্রামের কক্সবাজার  জেলাজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’। সন্ধ্যার পর থেকে প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়ার পর তাণ্ডব শুরু হয়। তা প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী হয়। কক্সবাজার, রামু ও চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে বাতাসের তীব্রতা ছিল খুব বেশি। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীতে ঘরের দেওয়াল চাপা পড়ে আব্দুল খালেক, চকরিয়ার বদরখালীতে গাছ চাপা পড়ে আসকর আলী (৫০) ও মহেশখালীতে মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। বাকি দুজনের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অন্যদিকে বাতাসের তোড়ে বিভিন্ন উপজেলায় গাছপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে পুরো কক্সবাজার। গাছপালা ভেঙে পড়ে অনেক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে হামুনের প্রভাবে সকাল থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় জেলায়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভারী বৃষ্টি ও বাতাস শুরু হয়। এতে গাছপালা উপড়ে ও ডালপালা ভেঙে পড়তে থাকে। এরপর থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পুরো জেলায়। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় বিঘ্ন হচ্ছে টেলিযোগাযোগ সেবাও। অধিকাংশ এলাকায় বন্ধ রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট। এছাড়া সন্ধ্যা থেকে দেখা দেয় মোবাইল নেটওয়ার্ক জটিলতা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কক্সবাজারের সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গাছপালা ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলায় সন্ধ্যা ৭ থেকে ৮টা পর্যন্ত প্রচণ্ড বাতাসের সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি হয়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়েছে। বিকাল ৪টা থেকে উপজেলায় বিদ্যুৎ নেই।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক শাহীন ইমরান বলেন, ঝড়ে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ‘ব্যাপক আকারে’। অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে, তার ছিঁড়ে গেছে। কক্সবাজার শহরে কোথাও বিদ্যুৎ নেই, যেহেতু প্রচুর বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়েছে কাজেই সেগুলো পুরো চেক না করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও কক্সবাজার পৌরসভায় কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেলেও সেন্টমার্টিন দ্বীপে তেমন কোনো ক্ষতির তথ্য আসেনি বলে জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, গাছ পড়ে চকরিয়ার দিকে ঢাকা–কক্সবাজার সড়ক কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেটা চালু করা হয়েছে। রাস্তার প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণ করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিভীষন কান্তি দাশ চট্রলার কণ্ঠকে জানান, বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে। বিশেষ করে উপকূলীয় উপজেলা মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়ায় ক্ষয়ক্ষতির বেশি আশংকা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। ইতিমধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রাথমিকভাবে ৯টি উপজেলার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং ১৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে লাল পতাকা উঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যটকদের সৈকতে না নামতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সতর্ক করতে বিচকর্মীরা সেখানে মাইকিং করছে। এদিকে ঘূর্নিঝড় মোকাবিলায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান, কক্সবাজার শরণার্থী ত্রান প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় ক্যাম্পের ভেতরে সিআইসি কার্যালয়, পাকা স্থাপনাগুলো প্রস্তুত রাখা হয়। যেন পরিস্থিতি খারাপ হলেই চলে আসতে পারে। তবে রোহিঙ্গা শিবিরে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান রোহিঙ্গা নেতারা।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn