স্বপ্নের ট্রেন উদ্বোধন আজ

রহিম উল্লাহ উপল।

কক্সবাজারে আইকনিক স্টেশনেই উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী ।। যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে ১ ডিসেম্বর থেকে ।। উদ্বোধন হবে ৫৩ হাজার কোটি টাকার আরও ১৬ প্রকল্প

সমুদ্রের গর্জনের সাথে রেলের ঝিকঝিক শব্দ আর হুইসেলের স্থায়ী সেতুবন্ধন রচিত হতে যাচ্ছে আজ। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ৫২ বছর পর পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হতে যাচ্ছে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারবাসীসহ সারাদেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য এ দিনটি বড় আনন্দের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকাল ১১টায় কক্সবাজার দৃষ্টিনন্দন আইকনিক স্টেশন থেকে বহুল আকাঙ্ক্ষিত দোহাজারী–কক্সবাজার নবনির্মিত রেলপথে ‘স্বপ্নের ট্রেন’ চলাচলের উদ্বোধন করবেন। তিনি আইকনিক স্টেশনে চত্বরে এই রেলপথ প্রকল্পের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের পর মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এখানে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

১৮ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছে দোহাজারী–কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্প। এর ফলে রেলওয়ে যুগে প্রবেশ করবে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। এর মাধ্যমে দেশের পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে। আজ উদ্বোধনের পর ১ ডিসেম্বর থেকে এই রুটে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্বোধনী ট্রেনে উঠে এই রুটের ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করবেন এবং রামু রেলওয়ে স্টেশন নেমে যাবেন। নতুন এই রেললাইনের ফলে চট্টগ্রাম থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত দ্রুত ও নির্বিঘ্নে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত হবে।

ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে। এছাড়া একইদিনে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেলেরও উদ্বোধন করবেন তিনি। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সাথে স্বপ্নের ট্রেন চলাচলের উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আজ কক্সবাজারে উদ্বোধন করবেন ৫৩ হাজার কোটি টাকার আরও ১৬টি প্রকল্প।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে– বাঁকখালী নদীর ওপর কস্তুরাঘাট–খুরুশকুল সংযোগ সেতু, কক্সবাজার বিমানবন্দরের ভূমি ভরাট, প্রোটেকশান বাঁধ নির্মাণ, অ্যাপ্রোচ রোড ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ, উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ডিজাইন ও স্থাপনকরণ, মহেশখালী গোরকঘাটা–শাপলাপুর জনতা বাজার সড়কের মজবুত ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প, রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কুতুবদিয়ায় কৈয়ারবিল আরসিসি গার্ডার ব্রিজ, চকরিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, ঈদগাঁও জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, মহেশখালী ইউনুচখালী নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, উখিয়া রত্নাপালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় একাডেমিক ভবন নির্মাণ, মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যায়য়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ উল্লেখযোগ্য। এসব প্রকল্প ছাড়াও যে চারটি প্রকল্প ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এগুলো হল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের টার্মিনাল–১, টেকনাফ মাল্টিপারপাস ডিজাস্টার রিসিলেন্ট শেল্টার কাম আইসোলেশন সেন্টার নির্মাণ, রামু উপজেলা জোয়ারিয়ানালা–নন্দাখালী সড়কে ১৮৪ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ ও কক্সবাজার সদরে কাব স্কাউটিং সমপ্রসারণ (৪র্থ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণ।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পর্যটন নগরীর কক্সবাজারের সাথে সারাদেশের ট্রেন চলাচলের উদ্বোধনকে ঘিরে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পুরো কক্সবাজার জুড়ে সাজ সাজ রব। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে কক্সবাজারবাসীর মাঝে।

কক্সবাজার শহরের ঝিলংজায় ঝিনুকের আদলে তৈরি এশিয়ার সর্ববৃহৎ আইকনিক রেল স্টেশনকে সাজানো হয়েছে মনোরমভাবে। এখানে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে নতুন দুটি ইঞ্জিনের সাথে ব্র্যান্ড নিউ ১৫ বগির কম্পোজিশনের একটি ট্রেন। গত বুধবার ১৯টি বগিসহ দুটি ইঞ্জিনের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ট্রেনটি কক্সবাজার পৌঁছে। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন থেকে এই ট্রেনে চড়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বহুল প্রতিক্ষিত দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচলের।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ডিসেম্বরের ১ তারিখে যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে। একটি আন্তঃনগর ট্রেন দিয়ে শুরু হবে। একটা মেইল ট্রেন দোহাজারী পর্যন্ত চলাচল করে সেটা পরবর্তীতে কক্সবাজার পর্যন্ত আসবে। তিনি বলেন, তবে মিয়ানমারের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন বিস্তার করা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য থাকলেও প্রতিবেশী দেশটির দুর্বল রেল অবকাঠামের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। রেলমন্ত্রী বলেন, এ রেলপথ নির্মাণে রাজনৈতিক একটা প্রভাব পড়বে। নির্বাচনী যে অঙ্গীকার করেছিলাম সেটা পূরণে বলা যাবে আমরা পূরণ করেছি। এতে মানুষ উন্নয়নের যে ধারা তার সঙ্গে থাকবে বলে মনে করি।

দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন জানান, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে দোহাজারি থেকে কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণে মেগা প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই মেগা প্রকল্পে ১০২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার।

প্রকল্পে যা আছে : দোহাজারী থেকে কক্সবাজার ১০২ কিমি রেলপথ নির্মাণ হয়েছে। রেলপথে স্টেশনের সংখ্যা থাকছে ৯টি। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ঝিলংজা এলাকায় ২৯ একর জমিতে ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্টেশন। আইকনিক এই স্টেশনটি নির্মাণে চীন, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক স্টেশনের সুযোগ–সুবিধা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পটিতে ১১০ জন বিদেশিসহ মোট ২৫০ জন প্রকৌশলী এবং ছয় শতাধিক লোক কাজ করছে। চার বছরের শ্রমে অনন্য সুন্দর রেলস্টেশন ভবনটি আজ দৃশ্যমান। তিনি বলেন, এই স্টেশন হবে এশিয়ার প্রথম শতভাগ পর্যটনবান্ধব কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছয়তলা স্টেশন। এতে রয়েছে পর্যটকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ–সুবিধা।

রেল সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারে ঝিনুকের আদলে আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মোট ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার চুনতি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকায় রেললাইন স্থাপন করায় বন্যহাতি ও বন্যপ্রাণী চলাচলের জন্য ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম।

মনোমুগ্ধকর আইকনিক রেলস্টেশন : প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, কক্সবাজার জেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকায় ২৯ একর জমির ওপর স্থাপিত দৃশ্যমান আইকনিক রেলস্টেশন এখন বিনোদন প্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় স্পটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী দূর থেকে ভিড় করছেন ঝিনুকের আদলে তৈরি দৃষ্টিনন্দন এ স্টেশন ভবনটি দেখার জন্য। এ স্টেশন ভবনটির আয়তন ১ লাখ ৮২ হাজার বর্গফুট। ছয়তলা বিশিষ্ট স্টেশনটি নির্মাণে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক স্টেশনের সুযোগ–সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। চার বছরের শ্রমে আইকনিক রেলস্টেশন ভবনটি আজ সত্যিই চোখ জুড়ানো বাস্তবতা। যদিও এখনো গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত অপারেশনের জন্য তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনের পর বাকি ফ্লোরগুলোর কার্যক্রম আস্তে আস্তে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দোহাজারী–কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো হুমায়ুন কবীর বলেন, আশা করছি ১ ডিসেম্বর থেকেই ঢাকা–কক্সবাজার যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করতে পারব। আর সেই ট্রেনে সর্বনিম্ন ভাড়া যেটি ধরা হয়েছে সেটি হচ্ছে ১৮৮ টাকা। আর এটি নন এসি মেইল ট্রেন। সর্বোচ্চ ভাড়া এসি বার্থে ১ হাজার ৭২৫ টাকা। বর্তমানে রেলের যে ভাড়ার হার আছে সেই অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ রুটে দুটি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব থাকলেও ঢাকা থেকে প্রথমদিকে দিনে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলবে। তবে পাশাপাশি কমিউটার ও মেইল ট্রেনও চালু হবে।

রেল সচিব বলেন, ভবিষ্যতে এই রুটে পর্যটক কোচ চালু করা হবে। শুধু ঢাকা নয় উত্তরাঞ্চল ও দেশের অন্যান্য অংশ থেকেও কক্সবাজারে রেলপথে আসা যাবে। এতে করে যোগাযোগের নতুন পথ উন্মোচন হবে।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজারের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫৫ ও সর্বোচ্চ ৭৪৮ টাকা : বহুল আকাক্সিক্ষত চট্টগ্রামের দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইনে প্রধানমন্ত্রী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধনের পর থেকে ঢাকা থেকে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল করবে ১ ডিসেম্বর। তবে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিকভাবে (যাত্রীবাহী) ট্রেন চলাচলের সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এর আগেই নতুন এই রুটে ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ কখন থেকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু করবেন তা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ট্রেনে করে যেতে ভাড়া লাগবে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫৫ টাকা (দ্বিতীয় শ্রেণির মেইল ট্রেন) আর সর্বোচ্চ ৬৯৬ টাকা। আন্তঃনগরে শোভন চেয়ার টিকিটের ভাড়া রাখা হয়েছে ২০৫ টাকা। আন্তঃনগর ট্রেনের প্রথম শ্রেণির সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩৪ টাকা। আর প্রথম শ্রেণির সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৬ টাকা। নতুন নির্মিত এই রেললাইনে ট্রেনের ভাড়া বাসের চেয়ে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম হবে। অনেক ক্ষেত্রে বাসের তুলনায় অর্ধেকেরও কম হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া ঠিক করা হয়েছে। রেলওয়ের মার্কেটিং শাখা থেকে গত ৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইনে ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়। তবে এই রুটে কয়টি ট্রেন চলবে, কোন সময়ে চলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রেল ভবনের নির্দেশনা পেলে তা ঠিক করা হবে। স্বল্প খরচে ভ্রমণপিপাসুরা চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে আড়াই ঘণ্টায় যেতে পারবেন পর্যটননগরী কক্সবাজারে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারের সর্বনিম্ন ভাড়া ১৮৮ টাকা : ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হলে ঢাকা থেকে সর্বনিম্ন ১৮৮ টাকা, সর্বোচ্চ ভাড়া ১৭২৫ টাকায় যাত্রীরা পর্যটন নগরীর কক্সবাজার যেতে পারবেন। সর্বনিম্ন ১৮৮ টাকা (মেইল ট্রেনে) ভাড়ায় লোকাল মেইল ট্রেনে যাত্রী ও পর্যটকেরা কক্সবাজার যেতে পারবেন।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক শাখা জানিয়েছে, চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারের প্রকৃত দূরত্ব ১৫০ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। তবে রেলওয়ের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সেতুর জন্য অতিরিক্ত ভাড়া ও দূরত্ব (পয়েন্ট চার্জ) নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সেই হিসেবে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে সাতটি সেতুর জন্য বাড়তি ৫৪ কিলোমিটারের ভাড়া আরোপ করা হয়েছে। বাড়তি পয়েন্ট চার্জ যুক্ত করে কক্সবাজার–চট্টগ্রাম রুটে বাণিজ্যিক দূরত্ব ২০৫ কিলোমিটার ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে আগামী রবি–সোমবার। আর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের ৩২১ কিলোমিটারের বাণিজ্যিক দূরত্ব বিবেচনায় ঢাকা–কক্সবাজার পর্যন্ত ভাড়া পুননির্ধারণ হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের সর্বমোট ৫৫১ কিলোমিটার বাণিজ্যিক দূরত্ব ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এ পথে নন–এসি অর্থাৎ শোভন চেয়ারে ৫০০ টাকা ও এসি সিটে ৯৫০ টাকা ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে। এসি সিটে ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ ভাড়া হবে ১ হাজার ১০০ টাকা। ভ্যাটসহ এসি কেবিনে ১ হাজার ২০০ ও এসি বার্থে ভাড়া পড়বে ১ হাজার ৭২৫ টাকা।

রেলওয়ে মহাপরিচালকের কার্যালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, দিনে একটি ট্রেন ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ১০টায় যাত্রা করে বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম স্টেশনে বিরতি দিয়ে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছাবে। কক্সবাজার থেকে দুপুর ১টায় যাত্রা করে রাত ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকায় ফিরবে। ফিরতি পথেও চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করবে। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে ট্রেনটির।

ছয়টি ট্রেনের নাম প্রস্তাব–চূড়ান্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী : ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে প্রথমে আন্তঃনগর ট্রেনটির জন্য ইতোমধ্যে রেলপথ মন্ত্রনালয় থেকে ৬টি নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এগুলো হলো ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’, ‘হিমছড়ি এক্সপ্রেস’, ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’, ‘ইনানী এক্সপ্রেস’, ‘লাবণী এক্সপ্রেস’ ও ‘সেন্টমার্টিন এক্সপ্রেস’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাম চূড়ান্ত করবেন।

ট্রেনে দুটি খাবার বগি, একটি পাওয়ার কার, তিনটি এসি কেবিন, পাঁচটি এসি চেয়ার, ছয়টি শোভন চেয়ার এবং একটি নন–এসি ফার্স্ট সিট বগি থাকবে। ঢাকা থেকে যাত্রার সময় আসন সংখ্যা হবে ৭৯৭। ফিরতি পথে আসন হবে ৭৩৭।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ থেকে জানা গেছে, আপাতত ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের তূর্ণা নিশিথার বগি দিয়ে চালানো হবে ঢাকা–কক্সবাজারের রুটের ট্রেনটি। তূর্ণা নিশিথায় বিকল্প রেক (বগি) দেওয়া হবে।

এর আগে গত রোববার পর্যটন নগরীর কক্সবাজারে প্রথমবারের মত ট্রেনের ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠে। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঐদিন সকাল ৯টায় একটি ট্রেন ছেড়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে পরীক্ষামূলকভাবে। মূলত উদ্বোধনের আগে প্রকল্পটি রেল চলাচলের উপযোগী কিনা তা পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য ট্রেনটি যাত্রা করেছিল। স্বপ্নের এই ট্রেন যাত্রার দৃশ্য দেখতে দোহাজারীর পর থেকে নতুন রেলপথের প্রতিটি স্টেশনে উৎসুক মানুষের উচ্ছ্বাস আর আনন্দ ছিল দেখার মত। পথে পথে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় ঠেলে সন্ধ্যায় ৬টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনে পৌঁছলে হাজার হাজার করতালিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ঐদিন রাত ৯টায় ট্রেনটি আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন ছেড়ে চলে আসে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn