ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নগরীর চারটি আসনে রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়ন প্রত্যাশী

নিজস্ব প্রতিবেদক।

দ্বাদশ জাতীয়  সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর  সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই উৎসাহভাব বিরাজ করছে। এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে গত ১৮ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকে। গত তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় এর সুফলের কারণে এবার আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুলোর প্রায় তিন গুণ বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী এবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার নগরীর চারটি আসনে (কোতোয়ালী, বন্দর–পতেঙ্গা, ডবলমুরিং এবং চান্দাগাঁও–বোয়ালখালী) বর্তমান ৪ জন দলীয় সংসদ সদস্যের সাথে দলীয় মনোনয়নের জন্য লড়ছেন ৭৯ জন দলীয় প্রার্থী।

বিগত ১৮ নভেম্বর আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের মাঝে দলীয় মনোনানয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে। দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে যাওয়া চট্টগ্রামের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রত্যেক প্রার্থীর সাথে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী ঢাকায় গেছেন। প্রার্থীর সর্মথনে কর্মী–সমর্থকরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল শোডাউন করেছেন।

বিশেষ করে নগরীর ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনে এবার রেকর্ড সংখ্যক দলীয় প্রার্থী দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম–৯ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর আসনে এবং চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর আসনে এবং চট্টগ্রাম–১১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফের আসন থেকে প্রথমবারের মতো (একসাথে ৩ আসনে মনোনয়নপত্র নিয়ে জমা দিয়েছেন) এই তিন আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আবার চট্টগ্রাম–১০ এবং চট্টগ্রাম–১১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী ও চসিক আংশিক) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদের সাথে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ২৫ জন। এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য গত তিনদিনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আবদুল কাদের সুজন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য মো. আরশেদুল আলম বাচ্চু, প্রয়াত সংসদ সদস্য মাঈনুদ্দিন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান, নগর আওয়ামী লীগ নেতা মো. দিদারুল আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য বিজয় কুমার চৌধুরী, সুচিন্তা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক, সিডিএ বোর্ড সদস্য অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী, ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ এমরান, আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির পুত্র মুজিবুর রহমান, সাবেক কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জাবেদুল আলম মাসুদ, কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী, মো. বেলাল হোসেন, এসএম কফিল উদ্দিন, কাজী শারমিন সুমি, এসএম নুরুল ইসলাম, নগর যুবলীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবু তাহের, আশেক রসুল খান, এম এ সুফিয়ান সিকদার, মো. খোরশেদ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি মো. মনছুর আলম পাপ্পি, এটি এম আলী রিয়াজ খান রঙি, মো. সাইফুল ইসলাম, কফিল উদ্দিন খান।

চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর সাথে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে লড়ছেন নিজ দলের ১৬ জন প্রার্থী। এই আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রীর পাশাপাশি আরো ১৬ জন দল থেকে মনোনয়ন ফরম নিলেও মূলত নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন চেয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। অবশিষ্ট নগর আওয়ামী লীগের ৬ জন শীর্ষ নেতা দল থেকে মনোনয়ন নিলেও তারা মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তানের সাথে নির্বাচনী মনোভাব নিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম নেননি বলে তাদের বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে। দলীয় মনোনয়ন নেয়া নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পিপি অ্যাডভোকট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কাউন্সিলর মো. শহিদুল আলম, নগর আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান চৌধুরী এরা কেউ নওফেলের সাথে নির্বাচন করবেন না। কারণ তারা সকলেই নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরীক্ষিত অনুসারী। তারা হয়তো কৌশলগত কারণে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন।

এই আসনে আরো যারা দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগ নেতা মো. দিদারুল আলম, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমান, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মো. জালাল উদ্দিন, আমিনুল হক, শাহজাদা মোহাম্মদ ফৌজল মুকিম খান, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মো. শফর আলী, মো. রাশেদুল হাসান।

চট্টগ্রাম–১০ (পাহাড়তলী–ডবলমুরিং) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুর সাথে দলীয় মনোনয়ন পেতে শক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়ছেন নিজ দলের ১৭ জন প্রার্থী। এই আসনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক চসিক প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজন, নগর আওয়ামী লীগের সদস্য বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর এম এ আজিজের পুত্র সাইফুদ্দিন খালেদ বাহারসহ আরো অনেকেই। এই আসনে আরো দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মাহমুদুল হক, চসিক প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন, আওয়ামী লীগ নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা কেবিএম শাহজাহান, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ, মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মো. শফর আলী,

মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফয়সাল আমীন, মো. আসলাম হোসেন, জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, মো. ছালামত আলী, মো. সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন।

চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের সাথে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে লড়ছেন নিজ দলের ২১ জন প্রার্থী। নগরীর চার আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী চট্টগ্রাম–৮ বোয়ালখালী–চান্দাগাঁও আসনে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসনে। চট্টগ্রাম–১১ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক চসিক প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজন, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু। এছাড়াও এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য রোটারিয়ান হাজী মো. ইলিয়াছ, নগর আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য শেখ মোহাম্মদ ইসহাক, মোহাম্মদ এনামুল হক, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্‌ফর আহম্মদ, কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাহাদুর, নগর যুবলীগের সহসভাপতি দেবাশীষ পাল, রেখা আলম চৌধুরী, মো. জাবেদ ইকবাল, সওগাতুল আনোয়ার খান, ইকবাল আলী, হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মো. আমিনুল হক বাবু, ইমরান ফাহিম নূর, সায়রা বানু রুশ্নি, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মো. শফর আলী, মো. রাশেদুল হাসান।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn