ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪ ১২:১৫ অপরাহ্ণ

হেভিওয়েট স্বতন্ত্র নিয়ে টেনশনে আওয়ামী লীগ

ওয়াসিম জাফর

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের দুই রিটার্নিং অফিসারের কাছে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৪৮ প্রার্থী। এরমধ্যে ৩১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। গত ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের ১৬ আসনে জমা দেয়া মনোনয়নপত্রে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের অনেক আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৯ জন নিজ দলের হেভিওয়েট নেতা ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কেন্দ্র থেকে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন (দলের নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী) তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে এমন আশায় আছেন চট্টগ্রামের দলীয় প্রার্থীরা।

বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম–১৩ আনোয়ারা–কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসন ছাড়া বাকি ১২টি আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজ দলের ১৯ জন হেভিওয়েট ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন মাঠে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজ দলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় টেনশনে পড়েছেন চট্টগ্রামের প্রায় আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। অনেক আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় এই আসনের দলীয় প্রার্থীরা বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে একেবারে টেনশন ফ্রি হয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছেন–রাঙ্গুনিয়া আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত বর্তমান সংসদ সদস্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আনোয়ারা আসনে দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত বর্তমান সংসদ সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, রাউজান আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত বর্তমান সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, নগরীর কোতোয়ালী আসনে দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পুত্র জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন।

চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপির সাথে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজ দলের নেতা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হোসাইন আবু তৈয়ব। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন সাবেক ছাত্রনেতা এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান।

চট্টগ্রাম–৩ সন্দ্বীপ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন নিজ দলের বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী।

চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম আল মামুনের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপ কমিটির সদস্য লায়ন মোহাম্মদ ইমরান।

চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালামের আথে আছেন নিজে দলের স্বতন্ত্র প্রার্র্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাছির হায়দার করিম।

চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের ৩ প্রার্থী। এদের মধ্যে হেভিওয়েট নেতা মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য মো. আরশেদুল আলম বাচ্চু এবং আওয়ামী লীগ নেতা বিজয় কিষাণ চৌধুরীও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে টেনশনে ফেলে দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–হালিশহর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বতর্মান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর খুবই ঘনিষ্টজন এক সময়ের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরো আছেন নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ।

চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। এই আসনে আওয়ামী লীগের মহিলা নেত্রী সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরীও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এই আসনের বতর্মান সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবদুল জব্বার চৌধুরী।

চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া–সাতাকানিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব।

চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান। এই আসনে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ কবির লিটনও স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে আজ ২ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি রোববার।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn