জুলাই ১৯, ২০২৪ ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ

প্রতীক পেয়েই প্রচারে নেমেছেন প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক।

প্রতীক পেয়েই মাঠের যুদ্ধে নেমে পড়েছেন চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তারা। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদেরকে তাদের দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৬ জন পেয়েছেন ঈগল প্রতীক, ৪ জন পেয়েছেন কেটলি প্রতীক, ৩ জন পেয়েছেন ট্রাক প্রতীক, ২ জন পেয়েছেন ফুলকপি এবং ১ জন পেয়েছেন তরমুজ এবং ১ জন পেয়েছেন বেঞ্চ প্রতীক। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রামে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে ১৬ আসনে মোট ২০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং ১৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১২০ জন প্রার্থী রয়েছেন। প্রতীক পেয়েই রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রার্থী এবং তাদের কর্মী–সমর্থকরা। এরপর নিজ নিজ এলাকায় শুরু করেছেন নির্বাচনী প্রচারণা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন পেয়েছেন ঈগল প্রতীক।

এ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহবুব উর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের।

চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়ব পেয়েছেন তরমুজ প্রতীক এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান পেয়েছেন ঈগল প্রতীক। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন খাদিজাতুল আনোয়ার সনি।

চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ঈগল প্রতীক। এ আসনে ৮ জন প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে জামাল উদ্দিনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় দলীয় প্রতীকই প্রার্থীদের বরাদ্দ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন কেটলি প্রতীক। হাটহাজারীর এ আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালামকে। শেষ মুহূর্তে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি হওয়ায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয় তাকে। এ আসনে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহজাহান চৌধুরী (কেটলি প্রতীক) এবং তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে আভাস মিলছে।

চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিউল আজম পেয়েছেন ট্রাক প্রতীক। এ আসনে ৫ জন প্রার্থী হলেও পর পর তিন বার নির্বাচিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বিপরীতে শক্ত কোন প্রতিপক্ষ নেই বললেই চলে।

চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে নেই কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে আছেন বিভিন্ন দলের মোট ৬ জন প্রার্থী। এ আসনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

চট্টগ্রাম–৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম পেয়েছেন কেটলি প্রতীক। বিভিন্ন দলের ১০ জন প্রার্থী রয়েছে এই আসনটিতে। আসন ভাগাভাগির কারণে জাতীয় পার্টির সোলাইমান আলম শেঠের সমর্থনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নোমান আল মাহমুদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালামের সঙ্গে জাপার সোলায়মান আলম শেঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে আভাস মিলেছে।

চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্বিতা করছেন। এর মধ্যে বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীও রয়েছেন। তবে তার কোনো শক্ত প্রতিপক্ষ নেই।

চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং) এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মনজুর আলম পেয়েছেন ফুলকপি প্রতীক। অপরদিকে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ মাহমুদ পেয়েছেন কেটলি প্রতীক। এ আসনে ৯ জন প্রার্থী থাকলেও বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) এ আসনের সাত জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক সুমন পেয়েছেন কেটলি প্রতীক। আসনটিতে আওয়ামী প্রার্থী রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফ। অন্যান্য প্রার্থী থাকলেও এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ঈগল প্রতীক। এই আসনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী নৌকার মনোনয়ন পান। এ আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৮ জন।

চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা) আসনে ৭ প্রার্থী দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে নির্বাচন করছেন বর্তমান ভূমিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জব্বার চৌধুরী পেয়েছেন ট্রাক প্রতীক। এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও আবদুল জব্বারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে এলডিপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত আসনটিতে।

চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া) এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব পেয়েছেন ঈগল প্রতীক। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। এ আসনে নদভীর মূল প্রতিপক্ষ আবদুল মোতালেব। নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর আগেই দুই পক্ষের সমর্থকদের উত্তেজনায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমানের প্রতীক ঈগল, অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ কবির লিটন পেয়েছেন ট্রাক প্রতীক। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খালেকুজ্জামান পেয়েছেন বেঞ্চ প্রতীক। এ আসনের নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান এবং অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ কবির লিটনের সঙ্গে।

এদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল দুপুর ২টার পরপরই গণসংযোগ শুরু করেছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে–নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গতকাল ছিল প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দে দিন। আগামী ৭ জানুয়ারি হবে ভোট উৎসব। এখনো ভোটের ২০দিন বাকি। চট্টগ্রামে ৬টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন এই ৬টি আসনের রিটার্নিং অফিসার ও বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম। আসন ৬টি হলো–চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম ৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও), চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম–১০ ডবলমুরিং–খুলশী, চট্টগ্রাম ১১ (বন্দর পতেঙ্গা)।

অপরদিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান চট্টগ্রাম–১ মীরসরাই, চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি চট্টগ্রাম–৩ সন্দ্বীপ আসন, চট্টগ্রাম–৬ রাউজান, চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসন, চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসন, চট্টগ্রাম–১৩ আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসন, চট্টগ্রাম–১৪ চন্দনাইশ আসন, চট্টগ্রাম–১৫ সাতকানিয়া–লোহাগাড়া আসন, চট্টগ্রাম–১৬ বাঁশখালী আসনের রিটার্নিং অািফসার। তিনি এই ১০ আসনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামে ১৬ আসনে ১৬৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাছাই এবং প্রত্যাহার শেষে এখন চট্টগ্রামের ১৬ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা ১২০ জন। আগামী ৭ জানুয়ারি বিজয়ের হাসি হাসবেন মাত্র ১৬ জন। যারা নির্বাচিত হয়ে যাবেন সংসদে।

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আওয়ামীলীগসহ ২০টি রাজনৈতিক দলের ১০২ জন এবং স্বতন্ত্র ১৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বনন্দ্বী প্রার্থীরা এখন থেকে গত ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে পারবেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৩ লাখ ৯৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩২ লাখ ৭৯ হাজার ৬২ জন এবং নারী ভোটার ৩০ লাখ ২১ হাজার ৯০২ জন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn