ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

সমাধান হচ্ছে না চট্টগ্রামের গ্যাস সংকটের

Gas Burner- Cvoice24-Robiul Robi photo

ইমরান নাজির।

চট্টগ্রাম নগরীতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে। আজ (শনিবার) কারিগরি ত্রুটি সারানোর পর এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্যাস পেতে শুরু করেছেন কিছু এলাকার বাসিন্দারা। তাই অনেকটা স্বস্তিতে আছেন তারা। তবে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিক কম হওয়ায় চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাস সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি পুরোদমে। বেশিরভাগ চুলা জ্বলছে নিভু নিভু অবস্থায়।

এদিকে, গেল দুদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে নগরীতে কমে গেছে যানবাহন, বেড়েছে যাত্রীদের ভোগান্তি। গ্যাসচালিত অটোরিকশা ও বাসগুলো রাস্তায় বের হয়নি। এতে বাড়তি ভাড়ায় যাতায়াত করতে হচ্ছে সবাইকে। অন্যদিকে আবাসিক ভবনে গ্যাস না থাকায় খাবারের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

nagad

nagad

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে টার্মিনালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

স্বাভাবিক হচ্ছে সরবরাহ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ বিকেল ৩টা নাগাদ নগরের জিইসি, খুলশী, চকবাজার, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বেশিরভাগ এলাকায় এখনো পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। নিভু নিভু জ্বলছে চুলা।

চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সরোয়ার রহমান রুমি বলেন, ‘দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত গ্যাস নিভু নিভু জ্বলছিল। এখন গ্যাস স্বাভাবিক আছে।’

মাদারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আনোয়ার সিভয়েস২৪-কে বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছি গ্যাসের জন্য। তবে এখন আলহামদুলিল্লাহ স্বাভাবিক আছে সরবরাহ। যা আসছে, খারাপ না। রান্না করা যাচ্ছে। তবে একটু টাইম নিচ্ছে এই আর কি।’

এখনও সরবরাহ নেই অনেক এলাকায়

নগরের দক্ষিণ প্রান্ত অর্থাৎ বন্দর-পতেঙ্গায় এখনো গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ইপিজেড এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘বিকেল তো হল? এখনও গ্যাস আসেনি আমাদের বাসায়। কখন আসবে সেটাও জানি না। ভাত হোটেলে খেয়েছি। সেখানেও দেখলাম ভাত-তরকারির সংকট। লাইন ধরে খাবার কিনতে হয়েছে।’

পতেঙ্গার বাসিন্দা রিমি আক্তার বলেন, ‘গার্মেন্টসে চাকরি করি। এমনিতেই কত কষ্ট করতে হয়। আজ বিকেল শিফটে ডিউটি। এখনও গ্যাস না আসায় বন-কলা খেয়ে অফিস রওনা করেছি। দুদিন ধরে রান্না হচ্ছে না বাসায়।’

বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা রিমন বলেন, ‘শুনেছি গ্যাস সরবরাহ বিকেল নাগাদ স্বাভাবিক হবে। তবে, বায়েজিদের মোহাম্মদনগর এলাকায় এখনো আসলো না।’

শিক্ষার্থী-যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মোহাম্মদ মামুন। তার বাসা মাদারবাড়ি হলেও অফিস খুলশী এলাকায়। জিইসি মোড়ে তার সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দিন আমি সিএনজি করে মাদারবাড়ি থেকে খুলশী পর্যন্ত ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় আসি। আজ আমার কাছ থেকে জিইসি আসতেই ১৮০ টাকা ভাড়া নিলো। তাদের অজুহাত গ্যাস সংকট, ওদিকে দুপুরের খাবার খেলাম হোটেলে। সবদিক দিয়েই বাড়তি ভোগান্তি।’

একই হাল মানজুরা বেগমের। মেয়েকে নিয়ে তিনি জিইসি থেকে যাবেন বেপজা কলেজে। অনেকক্ষণ তর্কের পর ভাড়া ঠিক করে সিএনজিতে উঠছিলেন তিনি। এ সময় তার সাথে কথা হলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘কি এক দেশে থাকি ভাই। অনেকক্ষণ যাবত দাঁড়িয়ে গাড়ি পাচ্ছি না। এখন সিএনজিতে যাচ্ছি এখান থেকে বন্দরটিলা ৩২০ টাকা ভাড়া দিয়ে। অথচ অন্যসময় ভাড়া রাখে তারা সর্বোচ্চ ২০০ টাকা।’

এর আগে  আজ শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে কেজিডিসিএল এর মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) আমিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘বিকেল ৩টার মধ্যে পুরো নগরীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসেছে ত্রুটি সমাধানের কাজ করছে। এর মধ্যে কিছু জায়গায় গ্যাস সরবরাহ শুরুও হয়েছে। তবে চাপ কম।’

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর (রিগ্যাসিফিকেশন) করে পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়। টার্মিনালের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল। এই দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছিল। পাঁচ বছর পরপর এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের (সংস্কার) প্রয়োজন হয়। গত ১ নভেম্বর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করা হয়। এ সময় টার্মিনালটি গভীর সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষে গত বৃহস্পতিবার টার্মিনালটি কয়েকবার চালু করার চেষ্টা করা হলেও গ্যাস সরবরাহ করা যায়নি। আবার বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে সামিট এলএনজি টার্মিনালটিও গত বৃহস্পতিবার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যাওয়ার কথা ছিল। এ কারণে টার্মিনালটিও খালি করা হয়। তাই গ্যাস সরবরাহও বন্ধ ছিল। কিন্তু শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু করতে না পারায় সমস্যা দেখা দেয়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn