ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

ছায়া মন্ত্রী কে হচ্ছেন চট্টগ্রাম হতে!

চট্টলার কন্ঠ প্রতিবেদক।

রাজনীতির ময়দানে মন্ত্রিত্বের আলোচনা আপাতত ‘অফ টপিক’। জোর আলোচনা চলছে সংরক্ষিত আসনে নারী এমপির চেয়ারে কে বসছেন তা নিয়ে। এবার আলোচনার টেবিলে যোগ হলো মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির শীর্ষ পদ। চট্টগ্রাম থেকে কমিটির সভাপতি পদে আসিন হয়ে কে হচ্ছেন সরকারের ‘ছায়ামন্ত্রী’; সবার চোখ এখন সেদিকে।

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে দেওয়া হতে পারে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সভাপতি পদ। আর ওয়াসিকা আয়েশা খানকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সেই গুঞ্জন শেষমেশ সত্য না হলে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আতাউর রহমান কায়সারকন্যা ওয়াসিকা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি অথবা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে পারেন। সেটি অনেকটা সংরক্ষিত নারী আসনে তাঁর সংসদে যাওয়ার মতো নিশ্চিত— এমনটা মনে করেন অনেকে।

নজর এবার নারী আসনে, কপাল খুলছে কার?
রাউজানের মানুষ তাঁদের পাঁচবারের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে মন্ত্রি হিসাবে চেয়েছিলেন। সেটি না পেয়ে সবার ধারণা ছিল তাঁকে হুইপ করা হবে। কিন্তু সেই স্বপ্নও পূরণ হয়নি। এবার ধারণা করা হচ্ছে আগের সংসদে থাকা ‘ছায়ামন্ত্রী’র পদ থেকে তাঁকে বাদ নাও দিতে পারে ক্ষমতাসীন দল। একাদশ জাতীয় সংসদে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন ফজলে করিম। যদিও এবার ওই পদে তাঁর সঙ্গে দৌঁড়ে আছেন সাবেক মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ও মুজিবুল হক।

এ ছাড়া সাত বারের এমপি সাবেক মন্ত্রী বান্দরবানের এমপি বীর বাহাদুর উশৈসিং আসতে পারেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে। তাঁর সঙ্গে এই কমিটিতে আলোচনায় আছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার।

একাদশ জাতীয় সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সালামের নৌকা নোঙর করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসনের ভোটের মাঠে লাঙল চষেছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান। জিতেও এসেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এবারো তাঁকে কোনো একটি সংসদীয় কমিটিতে রাখা হতে পারে।

তাঁরা ছাড়াও আলোচনায় আছেন চন্দনাইশের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরীও। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছিলেন নজরুল।এবার যে কোন একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সভাপতি পদে আসতে পারেন তিনিও।

একাদশ জাতীয় সংসদে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন এমপি এম এ লতিফ। এবার তিনিও আছেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির শীর্ষ পদের হিসাব-নিকাশে। লতিফ চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের টানা চারবারের এমপি।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজ কী

রেওয়াজ অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাজের তদারকি করবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
সংসদীয় কমিটিকে ছায়া মন্ত্রণালয় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও কার্যত তাদের কোনো কাজ নেই। কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কাজের ত্রুটি বিচ্যুতি খুঁজে বের করা ছাড়াও কিভাবে কাজ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা যায় সেসব বিষয়ে সুপারিশ করে থাকে সংসদীয় কমিটি। সংসদীয় কমিটিতে সুপারিশ করা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত দেবার এখতিয়ার থাকে না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদের দফা (২)-এ সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যাবলির বর্ণনা রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কমিটি সংবিধান ও অন্য কোনো আইন সাপেক্ষে (ক) খসড়া বিল ও অন্যান্য আইনগত প্রস্তাব পরীক্ষা করতে পারবে; (খ) আইনের বলবৎকরণ পর্যালোচনা এবং অনুরূপ বলবৎকরণের জন্য ব্যবস্থাদি গ্রহণের প্রস্তাব করতে পারবে; (গ) জনগুরুত্বসম্পন্ন বলে সংসদ কোনো বিষয় সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করলে সে বিষয়ে কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজ বা প্রশাসন বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত করতে পারবে।

কোনো মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি সংগ্রহ এবং প্রশ্নাদির মৌখিক বা লিখিত উত্তর লাভের ব্যবস্থা করতে পারবে। এবং (ঘ) সংসদ কর্তৃক অর্পিত অন্য যে কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সব কমিটির কাজের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

সুবিধা

বাস্তবিক অর্থে মর্যাদাক্রম অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের আলাদা কোনো পদ মর্যাদা নেই। সভাপতিদের পদ মর্যাদা সংসদ সদস্য।

একজন সংসদীয় কমিটির সভাপতি সংসদ এলাকায় সরকারিভাবে একটি অফিস পেয়ে থাকেন। এর বাইরে একজন ব্যক্তিগতসহকারী (পিএস) পেয়ে থাকেন, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর থাকে।

এছাড়া অফিসে আপ্যায়ন খরচ বাবদ ১২ হাজার টাকা মাসিক ভাতা পেয়ে থাকেন। এছাড়া সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা একটি ফ্ল্যাট পেয়ে থাকেন। এর বাইরে বিশেষ কোন সুবিধা নেই। তবে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজের সুবাদে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ থাকে সভাপতিসহ অন্যান্যদের।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn