এপ্রিল ১৪, ২০২৪ ১:০০ পূর্বাহ্ণ

তিন লাখ টাকার বিনিময়ে মিতুকে খুন করান এসপি বাবুল আকতার

দাম্পত্য কলহের জের ধরে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করিয়েছিলেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

ছয় খুনিকে এজন্য তিন লাখ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। বাবুল আক্তারের নির্দেশে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেছেন বাবুলের বিশ্বস্ত সোর্স মুসা। এ সংক্রান্ত অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলার সাক্ষ্যস্মারকে (এমওই) সইও করেছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত বিদেশি এক নারীর সঙ্গে বাবুলের পরকীয়ার জড়িয়ে পড়া নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। এর জেরে বাবুল আক্তার স্ত্রীকে খুনের সিদ্ধান্ত নেন এবং তিন লাখ টাকায় ‘খুনি’ ভাড়া করে স্ত্রীকে খুন করান। নিজেকে আড়ালে রাখতে প্রচার করেন- জঙ্গিরাই মিতুকে খুন করেছে।

মিতুকে খুনের মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলের ‘সোর্স’ মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা। সঙ্গে ছিল আরও ছয়জন। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মুসাকে ফোনে নির্দেশ দেন- গা ঢাকা দেওয়ার জন্য।

অভিযোগপত্রে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, যিনি এই মামলার বাদী। বাকি ছয় আসামি হলো- মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু এবং শাহজাহান মিয়া।

এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৪ জনকে খুনের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে পিবিআই। তারা হলেন- মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু, নুরুন্নবী, রাশেদ ও গুইন্যা। নুরুন্নবী ও রাশেদ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।

এছাড়া মামলার আসামিদের মধ্যে মুসা ও কালু পলাতক। ভোলাইয়া জামিনে আছে। কারাগারে আছে- বাবুল আক্তার, ওয়াসিম, শাহজাহান মিয়া ও আনোয়ার হোসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, মিতু হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের সাক্ষ্যস্মারক রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহানগর পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা গেছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn