জুলাই ১৯, ২০২৪ ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

হালদায় বেপরোয়া মাছ শিকারীরা

  1. বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হালদার মাছ শিকারিরা। প্রতিদিন নদীতে অবাধে জাল ফেলছে তারা। শিকার করছে রুই জাতীয়সহ বিভিন্ন জাতের মাছ। আগের তুলনায় অভিযান কমে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ডিম সংগ্রহকারীদের। প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদী থেকে সারাবছরই মাছ শিকারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নদীতে ফেলা যাবে না কোন ধরনের জাল। চালানো যাবে না ইঞ্জিনচালিত নৌকাও। এতসব নিষেধাজ্ঞার পরও হালদা মোহনা কচুখাইন, মোহরা এলাকা থেকে উজানে নাঙ্গলমোড়া পর্যন্ত দিনে-রাতে যে কোন সময় তৎপর থাকে অসাধু মাছ শিকারিরা। এর মধ্যে হালদার কিছু কিছু এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মা মাছ শিকারিদের আনাগোনা বেড়েছে বলে ডিম সংগ্রহকারীদের অভিযোগে জানা গেছে। একই সাথে অন্যান্য মাছ শিকারে নদীতে নামছে অসাধু কিছু জেলে।

    হালদার ডিম সংগ্রহকারীরা জানায়, সাধারণত হালদা নদীতে নৌ-পুলিশ, হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা প্রশাসন, আইডিএফ স্বেচ্ছাসেবক ও মৎস্য অধিদপ্তরের লোকজন অবৈধভাবে মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকেন।

    এজন্য ২০১৮ সাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে আইডিএফ’র একটি স্পিড বোট। এছাড়াও একই সংস্থার ৪০জন স্বেচ্ছাসেবকও প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরকে সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি এ অভিযানে যুক্ত হয়েছে নৌ-পুলিশেরও একটি স্পিড বোট। কিন্তু মাসখানেক আগে অকেজো হয়ে পড়ে আইডিএফ’র স্পিড বোটটি। বর্তমানে এটি সার্ভিসিং এর কাজ চলছে। এ অবস্থায় হালদায় অনেকটা কমে আসে অভিযানের মাত্রা। তাতে সুযোগ নেয় মাছ শিকারিরা। বর্তমানে বিশাল হালদায় অভিযানের দায়িত্বে রয়েছে নৌ-পুলিশ। কিন্তু অপ্রতুল জ্বালানি সরবরাহের কারণে তারাও নিয়মিত অভিযান চালাতে পারে না।

    জানতে চাইলে বেসরকারি সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (আইডিএফ) নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম চট্টলার কণ্ঠকে  বলেন, ‘হালদার অবৈধ মাছ শিকারিদের শনাক্ত করতে হালদা পাড়ে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে আইডিএফ। মা মাছ রক্ষায় আইডিএফ থেকে নদীর দুই পাড়ে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলায় রয়েছে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবকও। তাছাড়াও তাৎক্ষণিক অভিযানের জন্য রয়েছে একটি স্পিড বোট। এটি দিয়ে প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে সহযোগিতা দেওয়া হয়। মাসখানেক আগে থেকে আইডিএফ’র স্পিড বোটটি অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি সার্ভিসিং এর কাজ চলছে।’

    এদিকে ২০২০ সাল থেকে হালদা নদীতে কার্যক্রম শুরু করে নৌ পুলিশ। এজন্য হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা রামদাশ মুন্সির হাটে বসানো হয়েছে অস্থায়ী নৌ পুলিশ ক্যাম্প। সেখান থেকে হালদাতে অবৈধ মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বি এম মিজানুর রহমান চট্টলার কণ্ঠকে  বলেন, ‘২০২০ সালে হালদা নদীতে নৌ-পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। সম্প্রতি নৌ-পুলিশের অভিযানে যুক্ত হয়েছে একটি স্পিড বোট। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় নদীতে ‘জো’র সময়ে তুলনামূলক অভিযান বেশি চালালেও ভাটায় কম অভিযান চালানো হয়।’

    হালদায় অভিযান প্রসঙ্গে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলম চট্টলার কণ্ঠকে  বলেন, ‘১৫/২০ দিন আগেও গড়দুয়ারা এলাকায় এক অবৈধ মাছ শিকারিকে সাত দিনের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠাই। এরপরও মাছ শিকারিদের পাকরাও করতে প্রশাসন সবসময় সজাগ রয়েছে।’

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিচার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া চট্টলার কণ্ঠকে  বলেন, ‘হালদা নদী রক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হালদা রক্ষা শুধু কথায় নয়, কাজেও এর বাস্তবায়ন চাই।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn