মে ২০, ২০২৪ ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দুই গ্রুপে হাতাহাতি এবং চেয়ার ছোড়াছুড়ি

একজন যুগ্ম আহ্বায়কের বক্তব্য রাখাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতিতে জড়িয়েছে নগর বিএনপির দুই গ্রুপ। গতকাল বিকেলে নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ের মাঠে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে। এতে তিনজন আহত হন। তারা হচ্ছেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ও রিপন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নগর বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভার সঞ্চালক নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাজিমুর রহমানের নাম ঘোষণা করলেও তিনি বক্তব্য রাখেননি। পরে আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে নাজিমুর রহমান তাকে বক্তব্য না দেয়ার জন্য চাপ দেন বলে দলের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন। ‘বক্তব্য দিলে অসুবিধা হবে’ এমন মন্তব্য করেন বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সভাস্থলে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং মুহূর্তে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে নগর বিএনপির দায়িত্বশীলদের প্রতি ইঙ্গিত করে নাজিমুর রহমান আজাদীকে বলেন, স্বেচ্ছাচারীভাবে দল পরিচালনা করছে। এটার নমুনা হচ্ছে সিনিয়র-জুনিয়র তারা মেইনটেইন করে না। নিজেরা যে রকম ইচ্ছে সেভাবে চালায়। আজকেও (গতকাল) জুনিয়ররা মঞ্চে ছিল, সিনিয়ররা নিচে ছিল। সাত্তার (আবদুস সাত্তার) বক্তব্য দেবে না বলছে, তারপরও তাকে জোরাজুরি করছে। এর প্রেক্ষিতে আমি বলেছি, উনি বক্তব্য দিতে চাচ্ছেন না, তারপরও জোরাজুরি করে লাভ কি। তিনি বলেন, দলের মধ্যে কোনো শৃক্সখলা ও শিষ্টাচারবোধ নাই। যেমন ইচ্ছে তেমন চালায়। যার কারণে আজ (গতকাল) সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার আজাদীকে বলেন, আমার বক্তব্য দেয়া নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। এটা ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। আসল ঘটনা হচ্ছে, সিনিয়ররা দর্শকসারিতে বসা ছিলেন। জুনিয়ররা মঞ্চে বসে আছে। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের নাম বললেও বক্তব্য দেব না। এর প্রেক্ষিতে নাজিমুর রহমান, সৈয়দ আজম উদ্দীন ও কাজী বেলাল বক্তব্য দেয়নি। যখন আমার নাম বলছে তখন আমিও বক্তব্য দেব না বলেছি। আমরা কোনো ধরনের সিনক্রিয়েট করিনি। বারবার ঘোষণা দেয়ার পরও যখন বক্তব্য দিচ্ছি না তখন বক্কর (নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর) অনুরোধ করে এক মিনিট হলেও যেন বক্তব্য রাখি। তখন আমি মাইক হাতে নিয়ে বক্তব্য রাখব না এ ঘোষণা দিতে যাব, এমন সময় উত্তর পাশ থেকে কে যেন নাজিমুর রহমানের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারে। এরপর গণ্ডগোল শুরু হয়ে যায়।
নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, সাধারণত সময়ের জন্য সবাইকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ হয় না। আজ (গতকাল) আমরা মিটিং একটু আগেভাগে শুরু করেছি। তাই সিদ্ধান্ত ছিল সবাইকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হবে। এক পর্যায়ে কাজী বেলাল, নাজিমুর রহমান ও আজম উদ্দিন ভাইকে আহ্বান করলেও তারা বক্তব্য রাখেননি। পরে বক্কর ভাই (আবুল হাশেম বক্কর) অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারের নাম ঘোষণা করেন। সাত্তার ভাই যখন বক্তব্য রাখার জন্য দাঁড়াচ্ছিলেন তখন নাজিমুর রহমান বোধ হয় চাপ দিচ্ছিলেন বক্তব্য না রাখার জন্য। সাত্তার ভাই ডায়াসেও চলে আসেন। তখন নাজিমুর রহমান শাউট করে বলেন, বক্তব্য দিলে অসুবিধা হবে। এটা নিয়েই ঝামেলা হয়।
কিন্তু নাজিমুর রহমান দাবি করেছেন, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বক্তব্য দিতে চাননি। তারপরও জোরাজুরি করা হচ্ছে। আবার আবদুস সাত্তার বলছেন, নাজিমুর রহমানকে কে যেন চেয়ার ছুড়ে মেরেছে।
এ বিষয়ে শাহাদাত বলেন, সাত্তার ভাই যে বক্তব্য দিতে উঠেছেন সেটা তো সবাই দেখেছে। নাজিমুর রহমান যে উচ্চ শব্দে বলেছেন সেটাও সবাই দেখেছে। এখানে তো লুকোচুরির কিছু নাই। আমাদের জন্য তো কিছু হয়নি। তিনি বলেন, ওনার (নাজিমুর রহমান) বক্তব্য রাখতে ইচ্ছে না হলে রাখবেন না। আরেকজন রাখতে চাইলে বাধা দেবেন কেন?
এ বিষয়ে নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর আজাদীকে বলেন, সাত্তার ভাই বক্তব্য দিতে গেলে নাজিমুর রহমান মন্তব্য করেন। তবে কী বলেছেন আমি স্পষ্ট শুনতে পাইনি। পরে জানতে পেরেছি তিনি নাকি ‘বক্তব্য দিলে মুশকিল হবে’ টাইপের কিছু বলেছেন। আবদুস সাত্তারকে জোর করে বক্তব্য দেয়া প্রসঙ্গে বলেন, কাউকে কি জোর করে বক্তব্য দেয়ানো যায়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn