মে ২০, ২০২৪ ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ

এবারও আরাকান আর্মি এবং আরসাকে দুষলো মিয়ানমার

চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তসহ আশপাশের এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য মিয়ানমার এবার আরাকান আর্মির পাশাপাশি রাখাইনের সশস্ত্র সংগঠন আরসার ওপর দায় চাপিয়েছে। দেশটি বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ‘আন্তরিক সম্পর্ক’ নষ্ট করার স্বার্থে এই দুই পক্ষ মিলে সীমান্ত এলাকায় চলমান পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
সোমবার সকালে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ বিভাগের মহাপরিচালক জ ফিউ উইন এই ব্যাখ্যা দেন। পরে রাতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ফেসবুক পেজে এই বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বৈঠকে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।

 

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জ ফিউ উইন বলেছেন, আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা ১৬ সেপ্টেম্বর বিপি-৩১ নম্বরের বর্ডার গার্ড পুলিশের তাউংপিও চৌকিতে মর্টার হামলায় চালায়, যার মধ্যে তিনটি মর্টার বাংলাদেশ ভূখন্ডের ভেতরে পড়ে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেছেন, আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা পুনরায় একই অস্ত্র ব্যবহার করে এবং ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর বিপি-৩৪ নম্বরে বর্ডার গার্ড পুলিশের তংপিউ চৌকি আক্রমণ করে। যেখানে নয়টি মর্টার শেল এসে পড়ে বাংলাদেশের মাটিতে। জ ফিউ উইন বলেন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে অব্যাহতভাবে এ ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিকটবর্তী এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমার সবসময় দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি মেনে চলে এবং বাংলাদেশসহ সব দেশের অখÐতা ও সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা জানায়। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমার একজোট হয়ে কাজ করবে বলে জানান তিনি। এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশের দিক থেকে ‘সম্পূর্ণ ও একই ধরনের সহযোগিতা’ পাওয়ার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও আরসা সন্ত্রাসীদের পরিখা ও ঘাঁটি থাকার তথ্য ৭ সেপ্টেম্বর ক‚টনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানানোর কথা রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মহাপরিচালক। এবং এক্ষেত্রে সরেজমিন তদন্ত এবং সেসব স্থাপনা ও ঘাঁটি ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ও দ্রæত পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের আহব্বান তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন ঘটনাবলির ‘বাস্তব তথ্য’ দিয়ে একটি আনঅফিসিয়াল পত্র বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করেন।

সেখানে বলা হয়েছে, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে গোলাগুলির ‘সত্যিকারের ভাষ্য’ ১৮ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। আর সেটা ক‚টনৈতিক মাধ্যমে ৭ সেপ্টেম্বর ও ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।
মিয়ানমারের দিক থেকে আরাকান আর্মিকে দায়ী করে এর আগেও বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে রোববার জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম। ইয়াঙ্গুনের ওই বক্তব্যকে ‘গতানুগতিক’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন তিনি।
সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর চতুর্থবারের মত তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নে খুরশেদ আলম সেদিন বলেছিলেন, তাদের গতানুগতিক একটা উত্তর আছে যে, এটা আমাদের এখান থেকে হয়নি, এটা আরাকান আর্মি করছে।
এবার গুলির শব্দ উখিয়া সীমান্তে
বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তের পর এবার কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে গোলাগুলির পাশাপাশি থেমে থেমে ছোড়া হয়েছে মর্টার শেল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকার ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে গুলির আওয়াজ শুনতে পান স্থানীয়রা। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে এখানে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলে জানান এই চেয়ারম্যান।
পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, এতদিন ঘুমধুম সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এতে এপারের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে গত ২৮ অগাস্ট দুপুরে বান্দরবানের ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার থেকে দুটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি ফাইটিং হেলিকপ্টারে গোলা বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে এসে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তে বিজিবিকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে সীমান্তে এখনই সেনা পাঠানো হচ্ছে না বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn